Breaking News

Monday, 28 January 2019

শিয়ালদহ হাওড়া বর্ধমান মালদা সহ আরও বিভিন্ন স্টেশনে এবার থেকে করা হবে যাত্রীদের ব্যাগ পরীক্ষা।


আমাদের দেশে অনেক বারই  বোমা বিস্ফোরণ সুইসাইড বোম্বার প্লেন হাইজ্যাক ট্রেনে আতঙ্কিত হামলা এগুলো প্রায়ই ঘটেছে অনকে বার আমাদের দেশের সেনা দল সেটিকে রুখতে সক্ষমও হয়েছে।আমরা যখনই কোনো ব্যস্ততম জায়গাই,বা কোনো রেল স্টেশন বা বিমান বন্দরে থাকি তখন আমাদের মনের ভিতরে এই আতঙ্ক টা থেকে থাকে যে কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে।

তাই এবার বিমানের মতো রেলযাত্রীদের ক্ষেত্রেও অন্তত 15 থেকে 20 মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। এবার রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়া ব্যাবস্থাপনা নিচ্ছে কেন্দ্র। যে কোনওরকম নাশকতামূলক ঘটনা ঠেকাতে হাওড়া, শিয়ালদহ সহ পশ্চিমবঙ্গের ব্যস্ততম 11 টি রেল স্টেশনে বাড়ছে নিরাপত্তা। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বারাণসী, অযোধ্যা সহ গোটা দেশের 202 টি রেল স্টেশনে নেওয়া হচ্ছে একই ব্যবস্থা।

রেলমন্ত্রক এর তরফ থেকে  জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার এই কড়া ব্যবস্থায় যা রেলের ভাষায়, INTRIGRATED SECURITY SYSTEM( I.S.S) বলা হই । আরো বেশি বেশি করে লাগানো হচ্ছে  সিসিটিভি ক্যামেরা। কার্যকর করা  হবে আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেম। পার্সোনাল অ্যান্ড ব্যাগেজ স্ক্রিনিং সিস্টেমে যাত্রীদের যাবতীয় ব্যাগপত্র বা লাগেজ পরীক্ষা করা হবে আধুনিক ব্যবস্থায়। চালু হবে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল সিস্টেম। সিসিটিভি ক্যামেরা হবে ইন্টারনেট সংযোগ সমেত, যা ভিডিও চিত্রের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং এক মাস পর্যন্ত রেকর্ডিং করার ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। মালপত্র পরীক্ষার জন্য এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানারের পাশাপাশি যাত্রীদের সিকিউরিটি চেক-ইনের উদ্দেশ্যে ‘হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর্স’ এবং ‘ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর্স’ ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

হাওড়া, শিয়ালদহ সহ রাজ্যের কিছু স্টেশনে এহেন যন্ত্র বসানো রয়েছে। কিন্তুু  সেগুলি সেভাবে সক্রিয় নয়। আবার অনেক  স্টেশন এমন আছে যেখানে  এরকম পদ্ধতিই নেই।যে রকমই ব্যাগ হোক না কেন বা যত বড়ই ব্যাগ হোক কিংবা  যত বেশি জিনিসই থাকুক না কেন, রীতিমতো লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাগেজ স্ক্যানারের মাধ্যমে তার পরীক্ষা করাতে হবে সাধারণ যাত্রীদের।

 নতুন এই  ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন স্টেশনে বাড়ছে নিরাপত্তা? বসবে স্ক্যানার? রেলমন্ত্রক সূত্রে তা জানা গিয়েছে,

 শিয়ালদহ, হাওড়ার মতো অত্যন্ত ব্যস্ততম স্টেশন ছাড়াও এই তালিকার অন্য রেলওয়ে স্টেশনগুলি হল 1. মালদহ, 2. বর্ধমান, 3. আসানসোল, 4.দুর্গাপুর, 5.বিধাননগর, 6. মাঝেরহাট, 7.বালিগঞ্জ এবং 8.দমদম। সম্প্রতি রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রেলওয়ে জোনকে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, উল্লিখিত স্টেশনগুলিতে অবিলম্বে ‘INTRIGRATED SECURITY SYSTEM (I.S.S) আওতায় যাত্রী নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে দুষ্কৃতীরা কোনওভাবেই রেলওয়ে স্টেশন বা ট্রেনকে জঙ্গি হামলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে ও কোনো বিস্ফোরক বস্তুও না রাখতে পারে।

শিয়ালদহ স্টেশনের 9A এবং 9B প্ল্যাটফর্মের সামনে ব্যাগেজ স্ক্যানার যন্ত্র বসানো রয়েছে। যদিও সেটি এখনও কর্ম উপযোগী নয়।  হাওড়া স্টেশনেও একই ঘটনা । যদিও হাওড়া এবং শিয়ালদহে ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর্স ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কলকাতা টার্মিনাল বা চিৎপুর স্টেশনে ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মালপত্র পরীক্ষার জন্য ব্যাগেজ স্ক্যানার সিস্টেম কার্যকর রয়েছে। তবে তালিকায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্টেশনে এই সুবিধা সেভাবে নেই। এ ব্যাপারে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, ‘যাত্রী নিরাপত্তার প্রয়োজনে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তার পুরোটাই করব। রেলমন্ত্রক যা নির্দেশ দিয়েছে, পর্যায়ভিত্তিতে সেগুলির বাস্তবায়ন ঘটানো হবে।’

No comments:

Post a Comment