Breaking News

Thursday, 17 January 2019

ভিক্ষা করে ভিক্ষার টাকায় ১২ হাজারের বেশি মানুষকে অন্নদান

এই ভিক্ষুক কোন ধনী পরিবারের বিখ্যাত নারী নন, তিনি একজন সাধারণ ভিক্ষুক যার নাম অলকা দেবী। যার জীবিকাই হলো ভিক্ষা। অবশ্য এরকম ভিক্ষুকের অভাব এযুগে নেই, অলিতে-গলিতে সারা বছরই নানান ভিক্ষুকদের দেখা যায় ভিক্ষাবৃত্তিকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করতে। সে সকল ভিক্ষুকরা নিজেদের জীবনের চাহিদা মেটাতে ভিক্ষাবৃত্তি করেন, কিন্তু ভিক্ষা করে অন্যের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার মতো চিন্তা ভাবনা হয়তো কারোর মধ্যে কখনো আসে না। আর এটাও ঠিক যে ভিক্ষাবৃত্তি করে যেখানে নিজের জীবন অতিবাহিত করা দায় হয়ে ওঠে সেখানে অন্যের মুখে অন্ন! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অসাধ্য সাধন করেছেন এই অলকা দেবী।

সারা বছর ধরে উপার্জন করা ভিক্ষার টাকায় ১২ হাজারের বেশি মানুষকে অন্নদান বিধবা কীর্তনীয়া অলকা দেবী। বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলি মেলা, প্রাচীন এই মেলা সময়ের সাথে সাথে আরোও বেড়ে চলেছে। আর এই মেলায় বৈশিষ্ট্য বা এর আরেক নামই বলা যেতে পারে বাউল কীর্তনীয়াদের মেলা। দূর দূরান্তের বহু কীর্তনীয়া বাউল শিল্পীরা ছুটে আসেন এই মেলায়। মেলায় ঢুকলেই দেখা যায় প্রচুর আশ্রম।

তবে এতো আশ্রমের মাঝেও যেনো অন্য আশ্রম অলকা দেবীর আশ্রম। অলকা দেবী একজন সাধারণ ভিখারিণী। যাঁর সারা বছরের কাজই হলো ভিক্ষা করা৷ আর কথায় আছে না, মানুষের মধ্যেই আছে ভগবান। তাই মানব সেবায় সর্ব সেবা। আর সেই কথায় মাথায় রেখে নেমে পড়েছেন অলকা দেবী।

অলকা দেবী সারা বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভিক্ষা করে অর্জন করেন টাকা, অন্ন। আর সেই ভিক্ষায় উপার্জন নিয়ে মেলায় খোলেন আশ্রম। আর জয়দেব মেলার চার দিন বিনামুল্যে সাধারন মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেন৷ প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ হাজার মানুষ দু’বেলা খাবার খান তাঁর আশ্রমে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জয়দেব মেলা প্রাঙ্গনে এই কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন তিনি।



অলকা গোস্বামী জানান, “উনার এতেই ভালোবাসা আর সেই কারনেই তিনি সারা বছর ভিক্ষা করে যে টাকা উপার্জন করেন আর তা দিয়েই মানুষের মুখে এই খাবার তুলে দেন৷ অন্নভোগ খেতে আসা মানুষরাও হতবাক হয় এই ঘটনায়।”

মেলায় আশ্রমে আসা অপর্ণা মন্ডল নামে ইলামবাজারের এক বাসিন্দা জানান, “দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এই আশ্রমে আসেন অন্নভোগ নিতে। তার আসতেও ভালো লাগে এবং প্রতিবছরই আসেন। একজন ভিক্ষুক তারপরে তিনি আবার নারী, আর এই নারী হয়েই এমন এক অসাধ্যসাধন তিনি করেন তাতে আমরা তাঁকে নিয়ে গর্বিত। ঠিক ততটাই অবাক হয়ে যাই তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে।”

দুলু দাস, আশ্রমে অন্নভোগ নিতে আসা আরও একজন বলেন, “এ কাজ তাঁর দ্বারাই সম্ভব, আমরা নিজেরাও ভিক্ষাবৃত্তির সাথে যুক্ত থাকলেও কখনো ভেবে উঠতে পারিনা এমন একটা কাজ করতে পারবো যেটা তিনি করেছেন। শুধু করেনই নি, দীর্ঘ ২৫ ধরে করে চলেছেন।”

1 comment: