Breaking News

Monday, 14 January 2019

স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করলেই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ, বেতন ২০০০ থেকে ২৫০০: ঘোষণা মমতার।

শিক্ষক-সমস্যা মেটাতে, সদ্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা ছেলেমেয়েদের দিয়ে শিক্ষকতার ইন্টার্নশিপ করানোর কথা ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের বেতন হবে প্রাথমিক স্তরে দু’হাজার ও মাধ্যমিক স্তরে আড়াই হাজার টাকা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক করার পরে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সারা রাজ্যের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যক্ষরা। বেলা দু’টোয় নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই বৈঠকে হাজির ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ব্যাপারে আলোচনা করেছি আমরা।” তিনি জানান, শিক্ষক সমস্যা মেটানোই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সমস্যাপূরণে ইন্টার্নশিপ শুরু করার ভাবনা রয়েছে তাঁর। সেই ভাবনার কথা আরও ব্যাখ্যা করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কলেজ থেকে পাশ করার পর ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা দু’বছরের জন্য স্কুলে ইন্টার্ন হিসাবে কাজে লাগাই তা হলে ব্যাপারটা ভাল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁরা পারফরম্যান্স অনুযায়ী একটা সার্টিফিকেটও পাবেন। সেটা তাঁদের মুকুটে একটা পালক হবে। তা ছাড়া পরে যখন শিক্ষক নিয়োগ হবে তখন রিভিউ করে তাঁরা অগ্রাধিকার পেয়ে যাবেন।”


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “অনার্স নিয়ে যাঁরা স্নাতক পাশ করবেন বা যাঁরা স্নাতকোত্তর স্তরে উত্তীর্ণ হবেন তাঁদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ইন্টার্ন হিসেবে শিক্ষকতা করার সুযোগ দেওয়া হবে। সে জন্য মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে বেতনও দেবে রাজ্য। স্নাতক পাশ করলে পড়ানো যাবে প্রাথমিক স্কুলে, সে ক্ষেত্রে বেতন হবে দু’হাজার টাকা।”
যদিও মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, গোটা ব্যাপারটাই এখন ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে রয়েছে। এ দিনের বৈঠকে এ ব্যাপারে এক প্রস্ত আলোচনাও হয়েছে। সরকার কতটা আর্থিক সংকুলান করতে পারে, কতটা বাজেট বরাদ্দ করা যায় তা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষা মহলের একাংশের মত, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বস্তুত ‘সস্তায় পুষ্টিকর’ একটি সমাধান। অনেকেই মনে করছেন, লোকসভা ভোটের আগে যুব সমাজকে পাশে পাওয়ার জন্যই প্রস্তাব দেওয়া হল ঠিকই, তবে বহু বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা, নিয়োগ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগের শেষে, এই পদক্ষেপ কতটা সমস্যা মেটাবে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ এমনিতেই বহু যুবক-যুবতী টেট ও এসএসসি দিয়ে পাশ করার পরেও বেকার বসে থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অগ্রাধিকার না দিয়ে সদ্য পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে সমস্যা মেটানোর এই চেষ্টা কতটা ভাল হবে, তা নিয়ে সন্দীহান অনেকেই।

No comments:

Post a Comment