Breaking News

Thursday, 17 January 2019

পাঁচ কোটি টাকা বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংঅ্যাকাডেমি, হতে চলেছে বহরমপুরে।

প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বহরমপুরে করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং অ্যাকাডেমি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের বেহাল পুকুরের উপর নির্ভর করে এই প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দু মাস আগে এই ব্যাপারে ডিপিআর তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন।


 ইতিমধ্যে  ভেটিংয়ের এর জন্য চিফ ইঞ্জিনিয়ার্স কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের শিলান্যাস করা হতে পারে বলে জানানো গিয়েছে। জেলা শাসক পি উলাগানাথান বলেন জেলা বাসীর দাবি মেনে শহরে সুইমিং অ্যাকাডেমি গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে সেটি বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চলছে।

বহরমপুর শহরের সুইমিং অ্যাকাডেমি গড়ার  দাবি অনেক দিনের, সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন মহল এই ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অনেকবার দাবি জানিয়েছেন ।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে এই দাবি নিয়ে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নজরে আনা হয়। এরপর রাজ্য যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের কাছে এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। দু’মাস আগে সেই দপ্তরের নির্দেশে এই প্রকল্প নিয়ে ডিপিআর ও প্ল্যান এস্টিমেট তৈরি করা হয়। প্রায় সাড়ে 5কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ডিপিআর ও এস্টিমেটে উল্লেখ করা হয়েছে। পুকুরের মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন অনুমোদন মিললেই এই প্রকল্প নিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর আশা, এক-দু’দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন মহলের দাবি অনুসারে সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে থাকা জমিতে এই প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্র সদনের কাছে মোট জমির পরিমাণ 2.37একর। যারমধ্যে 0.94একর জমির উপর পুকুর রয়েছে। বাকি জমি ফাঁকা। গোরাবাজার মৌজায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট জমির জেএল নম্বর-91। প্লট নম্বর 592 ও 593।

এই জমি সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন দেখভাল করলেও তা জেলাশাসকের নামে রয়েছে। তাই এই বেহাল পুকুর ঘিরে আধুনিক সুইমিং অ্যাকাডেমি গড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জেলায় 1943 সালে সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন গড়া হয়। এই অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত গঙ্গা নদীতে 81 কিলোমিটার সাঁতার সুনাম অর্জন করেছে। এবার অ্যাসোসিয়েশনের বেহাল পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পাম্প চালিয়ে পুকুরের জল তোলা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই পুকুরের মাঝখানে গভীরতা প্রায় 12 ফুট। আর পাড়ের কাছে গভীরতা প্রায় 8 ফুট। পুকুরের জলস্তর পর্যন্ত লোহার কোনও রেলিং নেই। তাই জল তোলার পর পুকুরের নীচে কংক্রিটের করা হবে। তারপর জলস্তর পর্যন্ত চারপাশে লোহার রেলিং দেওয়া হবে।
এছাড়া, পুকুরের চারপাশে পাকা ঘাট, ডাইভিং(ডিগবাজি/ভল্ট)পুল, সাঁতারুদের জন্য ঘাটে টাচ বোর্ড ও টাচ ক্যামেরা, পুরুষ ও মহিলাদের পোশাক বদলের রুম, শৌচাগার, পাম্প স্টেশন প্রভৃতি সেখানে গড়া হবে। পাকা ঘাটে বসানো হবে টাইলস। সীমানা প্রাচীর ও আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে গোটা এলাকা। পরবর্তীতে এখানে দর্শকদের জন্য গ্যালারিও নির্মাণ করা হবে। মুর্শিদাবাদ সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবেন্দ্রনাথ দাস বলেন, জেলায় প্রতিভাবান সাঁতারুর অভাব নেই। শুধুমাত্র উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে প্রতিভার বিকাশ ঘটছে না। এবার তা পূরণ হতে চলেছে।

No comments:

Post a Comment