Breaking News

Wednesday, 20 February 2019

ফুল ফুটুক কিংবা নাই ফুটুক!কিন্তুু বসন্তকালে বসন্ত(চিকেন পক্স) ফুটবেই। তাই জেনে নিন এটির কারন ও এর দাগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়।


উত্তুরে হাওয়া ও বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমাহার নিয়ে চারিদিকে এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ তৈরি করতে  চলে এল বসন্তকাল। বছরের  এই ঋতুটা যেমন বাতাসে এক আলাদাই সুগন্ধ নিয়ে বেরায়।ঠিক তেমনই এই ঋতুতে এক মারাত্মক রোগের ভাইরাস বাতাসে ঘুরে বেড়ায় আর সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে, যার নাম বসন্ত বা চিকেন পক্স।

এটা আসলে  একটি ভেরিসেলা-জোস্টার নামক ভাইরাস থেকে হয়।এই রোগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির শুরুতে পেটের গন্ডগোল, গা ম্যাজম্যাজ, জ্বর, শরীর কমজোরি হওয়া ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়।কিন্তুু যখন পক্সে ফোস্কা বেরনো আরম্ভ হল তখন আর রক্ষা নেই। কাওকে যদি বসন্ত বা চিকেন পক্স হই তাহলে তা সম্পূর্ণ সারতে অন্তত 7 -10 দিন লাগে। আর ডাক্তারি নির্দেশ অনুসারে বিশ্রাম  নিতে হয় 21 দিন।পক্স 7-10 দিনের মাথায় সেরে যায় ঠিকই কিন্তুু যেই জিনিসটা সব থেকে ভংকর হয়ে দাড়াই সেটি হল পক্সের দাগ। তবে ঘরোয়া কিছু উপকরণের সাহায্যেই মেটানো যেতে পারে এই দাগ।

যে যে কারণের জন্য এই ভাইরাস ছড়ায়।

1.রোগীর কাশি বা হাঁচি থেকে।
2.পক্সে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শে আসলে।
3.রোগীর ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করলে।
4.এছাড়াও যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার এই রোগ হয়ে থাকে তবে পরবর্তীতে নবজাত শিশুরও হতে পারে এই রোগ।

এটা একটা প্রাকৃতিক ভাইরাস ঘটিত রোগ,যেটি এই বসন্তকালেই হয়।তাই প্রত্যেককের সাবধান হয়ে চলাটাই বাঞ্ছনীয়। অনেকেরই ধারণা চিকেন পক্স জীবনে একবার হয়। 2 শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও কারণে ভাইরাস সাপ্রেসড রয়ে গেলে তাঁদের 2-3 বারও চিকেন পক্স হয়ে থাকে।অনেকের একাধিক বারও পক্স হয়েছেও।

কিছু ঘরোয়া উপকরন যা মেটাতে পারে আপনার শরীর থেকে পক্সের দাগ।

ডাবের জল
ঘরোয়া উপকরণের মধ্যে ডাবের জলের ব্যাবহার সবথেকে পুরোনো।শুধুমাত্র চিকেন পক্সের দাগই নয়, ব্রণ-অ্যাকনের ক্ষেত্রেও ডাবের জল সমানভাবে উপকারি ও আরাদায়ক।
তুলো বা কলা পাতাই  ডাবের জল নিয়ে দাগের উপর দিন  যতদিন না পুরোপুরি দাগ মিটিয়ে  যাচ্ছে।

লেবুর রস
প্রথমে একটি লেবুকে দুই ভাগে ভাগ করুন।তারপর অর্ধেক লেবুর রসের সঙ্গে দুই টেবল চামচ জল মিশিয়ে দাগগুলোর উপর এই রস দিতে হবে। তবে জেনে রাখুন রাতের বেলাতেই এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলা রৌদ্রে আপনার  স্কিনে অন্য রিঅ্যাকশন হতে পারে।

পেঁপে এবং মধুর মিশ্রণ
মধু শরীরের পক্ষে এক অতুলনীয় ঔষধ হিসেবে গণ্য হয়, তা আমাদের সকলেরই জানা।
পাকা পেঁপে এবং মধু দুই-ই বেশ কার্যকরী বলা চলে। অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং এনজাইম  থাকার ফলে এটি পক্সের দাগ মেটাতে সাহায্য করে। কাজেই এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

নারকেল তেল
বিশেষ করে শীতকালে আমরা অনেকেই স্কিন কে কোমল এবং সজীব করে রাখতে নারকেল তেল ব্যবহার করি।
নারকেল তেল যেমন আমাদের শরীর কে সতেজ রাখে ঠিক তেমনই এটি পক্সের দাগ মেটাতে সাহায্য করে।প্রত্যহ সকালবেলা এটি দাগের উপর ব্যাবহার করতে পারেন।

হলুদ এবং বেসন মিশ্রণ 
পক্সের দাগের উপরে হলুদ এবং বেসনের মিশ্রণ ব্যবহার করলে দাগ অনেকখানি মেটানো সম্ভব।

মধু
মধু ত্বকের জন্য যে কতটা  উপকারি তা আমরা সবাই জানি। যতদিন পর্যন্ত না আপনার  দাগগুলো পুরোপুরি নির্মূল  হচ্ছে, ততদিন দাগের উপর দিনে দু'-তিনবার মধু ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেল
যাদের বাড়িতে অ্যালোভেরার গাছ আছে তাদের তো কোনো সমস্যাই নেই এটি ব্যবহার করতে। আর তাছাড়া অ্যালোভেরা জেল এখন বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। দিনে দু'বার করে এই জেল ব্যবহার করলে খুব সহজেই দাগ মেটানো সম্ভব।

গাঁদা ফুল
শুধু গাঁদা ফুল দিয়ে মালা বানানো নয়।এবার থেকে এটিকে ব্যবহার করুন ঔষধ রূপে।
চিকেন পক্সের কারণে যে দাগ হয়েছে সেখানে গাঁদা ফুলের পেস্ট ব্যবহার করতে পার। গাঁদা ফুল রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেটির পেস্ট তৈরি করে পক্সের দাগের জাইগাই লাগান। এটি আপনার পক্সের দাগ নির্মূল করতে সাহায্য করবে।

চন্দন তেল
ত্বকের পরিচর্যায় চন্দন তেল অপরিহার্য।  এক্ষেত্রেও চন্দন তেল ব্যবহার করা যায়। চন্দন  তেলের সঙ্গে পরিমাণ মত ভিটামিন কে অয়েল মিশিয়েও প্রয়োগ করতে পারেন।

এই সব ঘরোয়া দ্রব্যের সাহায্য নিয়ে মেটানো যেতে পারে পক্সের দাগ। তাছাড়া বেশি বেশি করে ফল খাওয়া,টমেটো  শালগম,বিনস বাঁধাকপি ইত্যাদি শাকসব্জি খাওয়া আর দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এই সব করলে যেটা হই টা হল এতে শরীর থেকে টক্সিক পদার্থ বেরিয়ে যাই আর শরীর কে ভেতর থেকে সতেজ করে তোলে।


No comments:

Post a Comment