Breaking News

Thursday, 14 February 2019

কমিশনের পরামর্শ শিক্ষক নিয়োগে ওয়েটিংদের আরও ‘ওয়েট’ করতে হবে।

 স্কুল সার্ভিস কমিশন সাফ জানিয়ে দিল শূন্যপদ সমস্যা না মিটলে একাদশ-দ্বাদশ ওয়েটিংদের নিয়োগের হবে না ৷ কমিশনের কর্তারা চাকরি-প্রার্থীদের আশ্বাস দিলেন ১৬০টি শূন্যপদের সমস্যা মিটলে মঙ্গলবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে ৷ কমিশন কর্তাদের দাবি  এখনও    ‘ওয়েট’ করতে হবে ওয়েটিং প্রার্থীদের ৷ কিন্তু, কেন কাউন্সেলিংয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি নবম-দশমে শূন্যপদ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগে ? কমিশনের জবাবে চূড়ান্ত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে চাকরি-প্রার্থী মহলে ৷



আজ, মঙ্গলবার একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ওয়েটিংদের তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী কমিশনের দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি নেন  ৷ দীর্ঘ আলোচনা হয় চাকরি-প্রার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ৷ চাকরি-প্রার্থীরা কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে  জানান, ‘‘ চেয়ারম্যান আধঘণ্টা কথা বলেছেন আমাদের সঙ্গে  ৷ কমিশন জানাতে পারেনি শূন্যপদ সংক্রান্ত সমস্যা না মিটলে কবে ডাকা হবে  ৷ বিকাশ ভবন থেকে এখনই দিনক্ষণ জানতে পারবে না ১৬০টি শূন্যপদ সমস্যা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ৷’’  নিয়োগের কী সমস্যা শূন্যপদ সমস্যার সঙ্গে ?  কমিশনের তরফে জবাবে তুলে ধরা হয় বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ ৷ উদাহরণ টেনে আনা হয় ‘খেতে না দিয়ে বিয়ে বাড়িতে আমন্ত্রণ’ করার ৷ চাকরি-প্রার্থীদের একাংশ এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ৷কেন কাউন্সেলিংয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি শূন্যপদ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও নবম-দশমে শিক্ষক নিয়োগে ? কমিশনের এই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে  জানান, ‘ কী সমস্যা আছে তোমাদের সেটা বলো৷’ দাবি না মিটলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে কমিশনের জবাব, ‘‘ শিক্ষক হতে এসেছো তোমরা ৷ আন্দোলন যদি তোমরা করো, তা করো৷ কী বলব আমরা৷’’  এদিন সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় চাকরি-প্রার্থীদের , ‘‘ তোমাদের ওয়েট করতেই হবে ,তোমরা ওয়েটিং,৷ ’’

অবিলম্বে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী কমিশনের দপ্তরে হাজির হন  নিয়োগের দাবিতে মাধ্যমিক পরীক্ষার শুরু দিনেই ৷ কিন্তু, চারকিপ্রার্থীরা চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যান কমিশনের তরফে এই মন্তব্য শুনে  ৷ তবে, চাকরি-প্রার্থীদের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বড়সড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে  আগামী দিনে নিয়োগের দাবিতে ৷

 অভিযোগ চাকরি-প্রার্থীদের, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা এসএসসির মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর হয়েছিল ৷ প্রায় একবছর পর প্যানেল প্রকাশিত হয়েছিল ২৭ নভেম্বর ২০১৭ সালে ৷ মোট প্রকাশ করা হয় ৫৭১১ শূন্যপদও ৷পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং শেষ হলেও কমিশন এখনও শুরু করেনি অবশিষ্ট শূন্যপদে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং ৷ ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম দফার কাউন্সেলিং হয়েছিল । নিয়োগপত্র দেওয়া হয় মোট ৩৭৭০ জন জন প্রার্থীকে ৷ ২০১৮ সালের ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলে অবশিষ্ট শূন্যপদে দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং ৷ দ্বিতীয় দফায়  নিয়োগপত্র দেওয়া হয় মোট ১১০৮ জন প্রার্থীকে । মোট ৪৮৭৮ জনকে দুই দফা মিলিয়ে  নিয়োগ পত্র দেওয়া হলেও এখনও ৮৩৩ জনের নিয়োগপত্র তো দূরের কথা, কমিশন কাউন্সেলিং পর্যন্ত করেনি ৷ এছাড়াও নন জয়নিং সিট রয়েছে কিছু ৷

 ধারনা চারকিপ্রার্থীদের , সব মিলিয়ে এখনও বাকি রয়েছে হাজারেরও বেশি সংখ্যক চাকুরিপ্রার্থীর নিয়োগ ৷ কমিশনের গ্যাজেটে আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগ ও ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অনুযায়ী নিয়োগের কথা বলা আছে৷ চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ এই দুটি নিয়ম মানছে না কমিশন  ৷ এই প্রসঙ্গে বলেন এসএসসি ছাত্র যুব অধিকার মঞ্চের এক সদস্য  , ‘‘ বারবার কমিশনে গিয়েছি আমরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৷ কিন্তু,  প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি কমিশনের তরফ থেকে ৷ এমত অবস্থায় আমরা ফের কমিশনে যাচ্ছি  আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে , দ্রুত নিয়োগ  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ওয়েটিংদের  ও আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগের দাবিতে। আমরা চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব যদি এর পরেও আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় তাহলে ৷’’ শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে একদিকে স্কুলগুলিতে যখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পঠন পাঠন ব্যবস্থা  তখন কমিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে  উদাসীনতা অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক।

শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘খামখেয়ালিপনা শিক্ষা দপ্তরের  এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের উচ্চশিক্ষিত বেকারদের ফল ভোগ করতে হচ্ছে , যারা দীর্ঘদিন ধরে এম্পানেলড হয়ে আছে  এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে । চলতে পারে না বছরের পর বছর এই জিনিস । অবিলম্বে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি নিয়োগের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলনকে  ও  তাদের পাশে রয়েছি আমরা আন্তরিকভাবে ৷’’

মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘ এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না দীর্ঘদিন । নিয়োগ প্রক্রিয়া এতদিন পর  শুরু হলেও নানান অনিয়ম প্রত্যেকটি স্তরেই  ও দেখা যাচ্ছে অভিযোগ ।  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু গত বছরের জুলাই ও আগস্টে একাদশ-দ্বাদশ এর প্রথম ও দ্বিতীয় কাউন্সেলিং হলেও আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গেল থার্ড কাউন্সেলিং না হয়েই নবম দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু যায়। ফলে  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এম্প্যালেন্ড ও ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা চরম অসহায়তার মধ্যে পড়েছেন । আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরেই STEA এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র  কথা বলেন এসএসসি দপ্তরে ৷  যথারীতি মৌখিক আশ্বাসই দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান৷ তাই  আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি ১২ তারিখে চাকরিপ্রার্থীদের যে শান্তিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান-ডেপুটেশন হচ্ছে তাকে ৷’’

No comments:

Post a Comment